শিশু-কিশোরদের শিক্ষামূলক ছড়া ও ছড়া
বুধবার, ৪ জানুয়ারি, ২০১৭
(পরমাণুগল্প) যন্ত্রণাময় জীবন
(পরমাণুগল্প)
যন্ত্রণাময় জীবন
হামিদ হোছাইন মাহাদী
বিয়ে হয়েছে মাত্র একবছর হলো সাদিয়ার। শাশুরবাড়িতে শত যন্ত্রণা পাওয়ার পরেও কখনো কিছুই শেয়ার করেনা কাউকে।অল্প বয়সে বিয়ে হওয়ায় সংসারের সব কাজ গুছিয়ে করতে পারেনা।প্রতিনিয়ত শাসিত হয় শাশুড়ির দ্বারা।স্বামী চাকরী শেষে রাত্রে বাসায় ফিরলে শাশুড়ি তাঁর ছেলেকে বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ দেয়।পরে ছেলে স্ত্রীকে মায়ের কথা অনুযায়ী গালিগালাজ ও শারীরিক আঘাত করে যায়।তবু শাশুরবাড়ির এ যাতনা প্রতিনিয়ত সয়ে যায় সাদিয়া।একদিন তরকারীতে লবণ বেশি হওয়ায় রান্না ঘরেই সাদিয়াকে ঝাড়ু দিয়ে মারতে উঠে শাশুড়ি। সাদিয়া বলে, মা ভুল হয়ে গেছে। আর হবেনা এমন।বারবার কেনো তোমার ভুল হয়? এমন প্রশ্ন করে শাশুড়ি। চুপ করে থাকে সাদিয়া।বুড়ো শাশুড়ির আছে শারীরিক বিভিন্ন রোগ।মাঝেমাঝে এমন অসুস্থ হয়ে যায়,মনে হয় দুনিয়া থেকে বিদায় নিবে।সাদিয়া কখনো শাশুড়ির সেবা করতে কার্পণ্য করেনি।রাতের আঁধারে শাশুড়ির আওয়াজ শুনলে দৌড়ে ঘুম থেকে ওঠে যায়।বলে, মা কী হয়েছে আপনার? এতোকিছুর পরেও সাদিয়া সাংসারিক জীবনে সুখের ছোঁয়া পাইনি।নিজেনিজে ভাবতে থাকে, জীবনটা কেনো এতো কঠিন? কোনো উত্তর পাইনা সাদিয়া।একদিন মা দেখতে আসলো সাদিয়াকে।জিজ্ঞেস করলো, মা কেমন কাটছে তোমার সংসার? সাদিয়া বলে,আল্লাহর রহমতে ভালোই কাটছে। আমার শাশুড়ি আম্মু অসুস্থ। একটু দোয়া করবেন।মাকেও কষ্টের কথা জানায়নি কখনো।বাসায় মেহমান আসলেও সর্বোচ্য চেষ্টা করে সুন্দরভাবে আপ্যায়ন করাতে।কিন্তু কৃতজ্ঞতা কভু পাইনি।উল্টো সামান্য ভুল হলেই শুনতে হয় শাশুড়ির বড়ো বড়ো কথা।সাদিয়া মন খারাপ না করে স্রষ্টার কাছে বলে, আমার মতো যেনো কোনো মেয়ে সংসারে এমন কষ্ট কখনো না পাই।
মোরাল: আপন ছেলের বউকে যদি অপর ভাবে তাহলে সেই সংসারে কখনো সুখ আশা করা যায়না।
২৪/০৯/২০১৬
প্রতীক্ষার প্রহর
প্রতীক্ষার প্রহর
হামিদ হোছাইন মাহাদী
এখনো প্রহর গুনি তোমার প্রতীক্ষায় সদা
যেনো জীবনের ভুলগুলো শোধরিয়ে নিতে পারি
প্রতিনিয়ত পাপের সাগরে ডুবে আছি বলেই
চিন্তাজগতের মাঝে তোমাকে স্মরি
এখন আর আসেনা আগের মতো হাসি
ফ্যাকাসে হয়ে থাকে সর্বদা অবয়ব
নদীর তীরে বসে অতিবাহিত করি কালান্তিকরণ
মাঝেমাঝে রৌদ্রের খরতাপ সইতে না পেরে
স্নান করতে নেমে যায় নদীর নীরে
নিশি হলেই তাকিয়ে থাকি নীলিমার পানে
কাটিয়ে দিই সেথায় প্রদোষকালীন মূহুর্তগুলো
জীবনের বাকি সময়গুলো কাটাতে চাই
আনন্দ আর ভালোবাসা দিয়ে তোমার সাথে।
২৯/০৯/২০১৬
আজও ভেসে আসে লাশের দুর্গন্ধ
আজও ভেসে আসে লাশের দুর্গন্ধ
হামিদ হোছাইন মাহাদী
-
আমাকে ক্ষমা করো হে প্রিয় ভূমি...
স্বাধীনতা এনেছিলাম হায়েনাদের হাত থেকে তোমাকে বাঁচাতে
তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাস
আজও শুনতে হচ্ছে ধর্ষিতা বোনের আর্তনাদ
শুনতে হচ্ছে তনু,আফসানা,খাদিজার মায়ের রোধন
স্বপ্নের মাঝেও হঠাৎ জেগে উঠি
শুনি গগণের চিৎকার ধ্বনি
মুজাহিদ,শিপন,জসিমের লাশের গন্ধ এখনো ঘুরেবেড়ায় আকাশে-বাতাসে
সাগর-রুনির সন্তান মেঘের আম্মু আম্মু বলে চিৎকার মনের মাঝে ঘুরপাক খায় প্রতিনিয়ত
ফুলের সুবাসের পরিবর্তে পবনের সাথে ছড়িয়ে পড়ছে দুর্গন্ধ
নিলয়-নিকেতন সবকিছু আজ অনিরাপদ
পশুকে হার মানাচ্ছে কিছু তরুণের তারুণ্য
হিংস্রজন্তুর মতো ঝাঁপিয়ে পড়ছে যুবতীর উপর
তাদের জন্য নেই কোনো আইনের এজলাস
নেই কোনো প্রশাসনের বাধা
স্বাধীনতার চুয়াল্লিশ বছর পেরিয়ে গেলেও
আজও কর্ণকুহরে ভেসে আসে শত্রুর বারুদের শব্দ
এখনো প্রতিক্ষণে প্রহর গুনি আমার সেই সার্বভৌমত্বকে ফিরে পাওয়ার।
০৫/১০/২০১৬
প্রশ্ন
প্রশ্ন
হামিদ হোছাইন মাহাদী
স্বাধীন দেশেই জন্ম নিয়ে
বোন কেনো আজ ধর্ষিত?
সুশীল সমাজ তোমার কাছে
প্রশ্ন এখন রাখছি তো।
সবকিছুতে মাথা ঘামাও
এখন কেনো চুপ আছো?
অন্য বিষয় হলেই দেখি
সবাইমিলে ধুপ নাচো।
আর কতো আর দেখবো এমন
বোন যে আমার লাঞ্চিত,
ওগো সুশীল একটু ভাবো
আইন যে আমি মানছি তো !
০৬/১০/২০১৬
বাদলের অপেক্ষায়
বাদলের অপেক্ষায়
হামিদ হোছাইন মাহাদী
-
হঠাৎ গগণের মেঘ আচ্ছন্ন !
গর্জনে ভারী হয়ে উঠলো আকাশ-বাতাস
খুলে গেলো আমার আঁখি যুগল
বাহিরে দেখি রিমঝিম বৃষ্টির শব্দ
আবহাওয়া আজ অনেক মনোরম
শীতল হাওয়া বয়ে যাচ্ছে...
একটু আধটু অন্ধকাররূপ ধারণ করছে।
কল্পনার জগতে পাড়ি জমালো
আমার ছোট্ট মনটি।
অনেক প্রতীক্ষার পর ফিরে আসলো
আকাঙ্ক্ষিত প্রিয়তমা,
যার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর গুনছিলাম।
হৃদয় জুড়ে গেলো আমার
প্রেয়সী গ্রহণ করে নিলো আমাকে
তাঁর মনোমুগ্ধকর আকর্ষণে।
ভিজিয়ে দিলো আমার কায়া
যা ভাবছিলাম তা পূর্ণ হলো
এখনো কর্ণকুহরে ভেসে আসছে প্রেয়সীর গুড়গুড় শব্দ।
হে প্রেয়সী !তোমাকে স্বাগত জানাই...
আমার হৃদয় কষ্ট অনুভব করলে
আশা করি তুমি শীতল করে দিবে....।
২৪/০২/২০১৬
চকবাজার,চট্টগ্রাম।
মায়ের ভালোবাসা
মায়ের ভালোবাসা
হামিদ হোছাইন মাহাদী
একটি অক্ষর।একটি শব্দ।যার তাৎপর্য বর্ণনা করতে গেলে সমুদ্রের জল শেষ হয়ে যাবে।সেই শব্দটা হলো পৃথিবীর সবচেয়ে প্রিয়।যে নাম মুখে নিলেই প্রাণ ভরে যায়।দুঃখময় মূহুর্ত সুখে পরিণত হয়।মনের বেদনা দূর হয়ে যায়।দশমাস দশদিন গর্ভে ধারণ করে কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করে ধরণীর অবয়ব দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন, সে হলো আমাদের মা।কতো রাত নির্ঘুম কাটিয়ে দিয়েছেন শুধু আমাদের সেবা করতে গিয়ে।আর কতো রাত কোলে বসিয়ে, দোলনায় দোল দিয়ে,আদর চুমু দিয়ে রাত অতিবাহিত করেছেন সে হিসেব নাই।আজ হাঁটিহাঁটি পা পা করে বড়ো হলাম।এখনো মা বলে, বাবা তুই কেমন আছিস? দিনকাল কেমন যাচ্ছে তোর? কিন্তু অদৃষ্টের পরিহাস, আমাদের একটু সময় থাকেনা সেই গর্ভধারিণী মায়ের খবর নিতে।ছাত্রজীবন পার করে সাংসারিক জীবনে সুন্দর স্ত্রী পেয়ে হাজারো দুর্ভাগা ভুলে যায় তাঁর মাকে।মা থাকে গ্রামে,আর তিলতিল করে বড়ো করা ছেলেটি থাকে স্ত্রীকে নিয়ে নগরে।তবু এই মা কখনো বলে না,বাবা আমি কষ্টে আছি।আমাকে একটু দেখতে আয়।ফোন করলে বলে,বাবা তুই সুখে আছিস কিনা বল।তুই সুখে থাকা মানে, আমি সুখে থাকা।আমাদের রাসূল (সঃ) তো বলেই গিয়েছেন, মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত। মাকে কষ্টে রেখে কখনো আশা করা যায়না বেহেশত।যে সন্তানের উপর পিতামাতা অসন্তুষ্ট সেই সন্তানের মতো হতভাগা পৃথিবীতে দ্বিতীয় আর নেই।কারণ,আল্লাহ সেই ব্যাক্তির উপর সন্তুষ্ট,যার উপর পিতামাতা সন্তুষ্ট। আর তিনি তাদের উপর অসন্তুষ্ট, যার উপর পিতামাতা অসন্তুষ্ট।রাগের বশবর্তী হয়ে অনেকে আছে, মাকে গালি দেয়;অনেকে আছে মাকে ঘর থেকে বাহির করে দেয়।আর মা বলে,যাকে এতো কষ্ট করে বড়ো করলাম,আজ তাঁর শত্রু হয়ে গেলাম।এমন সন্তান জন্ম না দিলে হয়তো ভালো হতো।
কোনো মা যখন এ কথাগুলো মুখ দিয়ে বের করে তখন স্রষ্টার আরশ কেঁপে উঠে।আর ফেরেশতারা ঐ হতভাগা ব্যাক্তির উপর লানত করতে থাকে।আজকে তুমি সুখী হওয়ার পিছনে কার অবদান তা কখনো কি ভেবে দেখেছো?
বৃদ্ধে যখন উপনিত হয় মা, তখন একটু চায় ছেলেদের কাছে সাহায্য, কিন্তু বর্তমানে দেখা যায় সুখের সাগরে বাস করতে গিয়ে অধিকাংশ ছেলেদের মায়ের খবর নেওয়ার সুযোগ হয়না।কিভাবে মা আপনাকে বড়ো করেছেন তা একটু ভাবুন।স্মরণ রাখবেন, বৃদ্ধাশ্রম যেনো কোনো মায়ের ঠিকানা না হয়।যদি হয়, তাহলে দুনিয়াও শেষ,পরকালও শেষ।
জুমার দিনে
জুমার দিনে
হামিদ হোছাইন মাহাদী
-
জুমার দিনে চলো সবাই
মসজিদে ছুটি,
প্রভুর নামে করবো জিকির
সিজদাতে লুটি।
-
সবাই জন্য করবো দোয়া
দু'হাত তুলে,
এক কাতারে দাঁড়াবো যে
প্রভেদ ভুলে।
-
হাত মিলিয়ে বলবো তাদের
কেমন আছো ভাই?
আমরা সবাই থাকবো মিলে
যে যেদিকে যাই।
০৭/১০/২০১৬
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)