বুধবার, ৪ জানুয়ারি, ২০১৭

মায়ের ভালোবাসা

মায়ের ভালোবাসা হামিদ হোছাইন মাহাদী একটি অক্ষর।একটি শব্দ।যার তাৎপর্য বর্ণনা করতে গেলে সমুদ্রের জল শেষ হয়ে যাবে।সেই শব্দটা হলো পৃথিবীর সবচেয়ে প্রিয়।যে নাম মুখে নিলেই প্রাণ ভরে যায়।দুঃখময় মূহুর্ত সুখে পরিণত হয়।মনের বেদনা দূর হয়ে যায়।দশমাস দশদিন গর্ভে ধারণ করে কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করে ধরণীর অবয়ব দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন, সে হলো আমাদের মা।কতো রাত নির্ঘুম কাটিয়ে দিয়েছেন শুধু আমাদের সেবা করতে গিয়ে।আর কতো রাত কোলে বসিয়ে, দোলনায় দোল দিয়ে,আদর চুমু দিয়ে রাত অতিবাহিত করেছেন সে হিসেব নাই।আজ হাঁটিহাঁটি পা পা করে বড়ো হলাম।এখনো মা বলে, বাবা তুই কেমন আছিস? দিনকাল কেমন যাচ্ছে তোর? কিন্তু অদৃষ্টের পরিহাস, আমাদের একটু সময় থাকেনা সেই গর্ভধারিণী মায়ের খবর নিতে।ছাত্রজীবন পার করে সাংসারিক জীবনে সুন্দর স্ত্রী পেয়ে হাজারো দুর্ভাগা ভুলে যায় তাঁর মাকে।মা থাকে গ্রামে,আর তিলতিল করে বড়ো করা ছেলেটি থাকে স্ত্রীকে নিয়ে নগরে।তবু এই মা কখনো বলে না,বাবা আমি কষ্টে আছি।আমাকে একটু দেখতে আয়।ফোন করলে বলে,বাবা তুই সুখে আছিস কিনা বল।তুই সুখে থাকা মানে, আমি সুখে থাকা।আমাদের রাসূল (সঃ) তো বলেই গিয়েছেন, মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত। মাকে কষ্টে রেখে কখনো আশা করা যায়না বেহেশত।যে সন্তানের উপর পিতামাতা অসন্তুষ্ট সেই সন্তানের মতো হতভাগা পৃথিবীতে দ্বিতীয় আর নেই।কারণ,আল্লাহ সেই ব্যাক্তির উপর সন্তুষ্ট,যার উপর পিতামাতা সন্তুষ্ট। আর তিনি তাদের উপর অসন্তুষ্ট, যার উপর পিতামাতা অসন্তুষ্ট।রাগের বশবর্তী হয়ে অনেকে আছে, মাকে গালি দেয়;অনেকে আছে মাকে ঘর থেকে বাহির করে দেয়।আর মা বলে,যাকে এতো কষ্ট করে বড়ো করলাম,আজ তাঁর শত্রু হয়ে গেলাম।এমন সন্তান জন্ম না দিলে হয়তো ভালো হতো। কোনো মা যখন এ কথাগুলো মুখ দিয়ে বের করে তখন স্রষ্টার আরশ কেঁপে উঠে।আর ফেরেশতারা ঐ হতভাগা ব্যাক্তির উপর লানত করতে থাকে।আজকে তুমি সুখী হওয়ার পিছনে কার অবদান তা কখনো কি ভেবে দেখেছো? বৃদ্ধে যখন উপনিত হয় মা, তখন একটু চায় ছেলেদের কাছে সাহায্য, কিন্তু বর্তমানে দেখা যায় সুখের সাগরে বাস করতে গিয়ে অধিকাংশ ছেলেদের মায়ের খবর নেওয়ার সুযোগ হয়না।কিভাবে মা আপনাকে বড়ো করেছেন তা একটু ভাবুন।স্মরণ রাখবেন, বৃদ্ধাশ্রম যেনো কোনো মায়ের ঠিকানা না হয়।যদি হয়, তাহলে দুনিয়াও শেষ,পরকালও শেষ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন