বুধবার, ৪ জানুয়ারি, ২০১৭

শিশুদের প্রতি আচরণ: আমার ভাবনা

শিশুদের প্রতি আচরণ: আমার ভাবনা হামিদ হোছাইন মাহাদী - শিশুদের প্রতি সুন্দর আচরণ, তাদের সাথে বসে খোশগল্প ,মুচকি হেসে কথা বলা ইত্যাদি অভ্যাস আমার ছোটকাল থেকেই। যেখানে যাই না কেনো ছোটোদের দেখলেই কাছে টেনে নিই। জিজ্ঞেস করি, কেমন আছো ভাইয়া? কোন ক্লাসে পড়ো তুমি? তোমাদের স্কুলের নাম কী? এমন অনেক প্রশ্ন করে তাদের বন্ধু হওয়ার চেষ্টা করি। সেজন্য যেখানে থাকি সেখানেই ছোটোদের নিয়ে আমার একটা টিম থাকে। তাদেরকে প্রায়ই বলি, ইচ্ছে হয় তোমাদের মতো হয়ে যেতে। কিন্তু অতীত তো আর ফিরে আসবে না। আপনি যখন ছোটোদের সাথে সুন্দর ব্যবহার করবেন,দেখবেন তারা অনেকবেশি আনন্দ অনুভব করবে। জিজ্ঞেস করুন, ভাইয়া তোমার প্রিয় খেলা কী? চলো একসাথে মাঠে খেলি। এভাবে যখন তাদের সাথে কথা বলবেন,দেখবেন তখন তারা সদা আপনার পিছু থাকবে। শিশুরা স্বভাবত চায় তাদের সাথে এসে কেউ গল্প করুক। আজকে যখন টিউশনে গেলাম; দেখি ৪/৫ জন শিশু আগে থেকে Reading room এ খেলা করতেছে। অনেকে আছে বিরক্তবোধ করে শিশুদের চেঁচামেচি দেখে। স্টুডেন্টকে পড়া দিয়ে শুরু করলাম তাদের সাথে আড্ডা। প্রথমে কোথায় পড়ে জিজ্ঞেস করলাম। বললো, ইংলিশ মিডিয়ামে। তাদের সাথে এবার ইংরেজিতে কথা বলতে শুরু করলাম। তারা তো মহাখুশি! ভেতর থেকে মা আর তাদের নানু ডাকতেছে চলে আসার জন্য। দেখি, কেউ আর যায় না। শেষ পর্যন্ত আমার চেয়ারেই বসে বসে আমার সাথে গল্প করে যাচ্ছিল কেজিতে পড়া একটি শিশু।অন্যরাও দৌড়ে দৌড়ে খেলা করতেছে আর আমার সাথে মজা করতেছে। মূলত বলতে চাচ্ছি, শিশুর মন-মানসিকতা বুঝে তাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করুন।শিশুর সামনে কখনো রূঢ় ব্যবহার করবেন না। শিশুদের ব্রেইন খুব Sharp থাকে। তাই তাদের কাছে যা বলবেন তা তারা বড়ো হয়ে অন্যের সাথে বলবে। হাস্যেজ্জল মন নিয়ে তাদের সাথে কথা বলুন। কোনো কাজে ভুল করলে কখনো ধমক দিবেন না। বলুন, ভুল করেছো কোনো সমস্যা নাই। আবার চেষ্টা করো। অনেক টিচার ছাত্রদের গায়ে হাত তুলে। বেত্রাঘাত করে। এভাবে কখনো শিশুদের শাসন করা সমীচীন নয়। সর্বোচ্য একটু ভয় লাগাতে পারেন। পড়া না পারলে ভালোভাবে বুঝিয়ে দিন। পিতা-মাতার উচিত, সন্তানের কী চাওয়া, সন্তান কী খেলতে পছন্দ করে, কী খেতে পছন্দ করে তা পূরণ করা। চীনদেশে একটা সংস্কৃতি চালু আছে, একটা শিশু যখন বসতে শুরু করে তখন তারা বিভিন্ন খেলনাদ্রব্য তাদের সামনে এনে দেয়। তখন শিশুরা যেটার প্রতি খুব আগ্রহ সেসব খেলনার আরো বিভিন্ন উন্নতমানের খেলনা তাদের সামনে এনে দেয়। তারা এগুলো ভাঙে আবার অভিভাবকরা জোড়া লাগিয়ে দেয়। এভাবে একটা সময় দেখা যায়, একটা শিশু ছোটোকাল থেকেই শিখে নেয় খেলনাগুলো কিভাবে লাগানো থাকে। আর এসব শিশুদের থেকেই উঠে আসে অল্পবয়সে অসংখ্য ক্ষুদে বিজ্ঞানী। ১১/১০/২০১৬

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন